ঋণের কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে আমতলীতে প্রতিবন্ধী চাচার জমি লিখে নিলেন ভাতিজা | আপন নিউজ

মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন

প্রধান সংবাদ
কলাপাড়ায় ই’য়া’বা বিক্রির দায়ে দুই যুবকের কা’রা:দ’ণ্ড কলাপাড়ায় ১.৫ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের শুভ উদ্বোধন কলাপাড়ায় সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি ম’দ উ’দ্ধা’র, আ’ট’ক-৪ কলাপাড়ায় মসজিদের ইমামকে পি’টি’য়ে র’ক্তা’ক্ত জ’খ’ম মহিপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে গাঁ’জাসহ মা’দ’ক ব্যাবসায়ী আ’ট’ক নি’খোঁ’জে’র তিন দিন পর শিবচর থেকে কলাপাড়ার কৃষিবিদের ম’রদে’হ উদ্ধার মহাসড়কে মৃ’ত্যু’র মি’ছি’ল থামছেই না; তিন দিনে তিন প্রা’ণ ঝর’ল কলাপাড়া-কুয়াকাটা সড়কে কলাপাড়ায় সেভেন ডিলাক্স বাসের চা’পা’য় মোটরসাইকেল আরোহী নি’হ’ত কলাপাড়া-কুয়াকাটা মহাসড়কে বেপরোয়া বাসের চা’পা’য় ২ দিনে দুইজন নি’হ’ত তালতলীতে আওয়ামীলীগ নেতার বি’রু’দ্ধে জমি দ’খ’লে’র অভিযোগ
ঋণের কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে আমতলীতে প্রতিবন্ধী চাচার জমি লিখে নিলেন ভাতিজা

ঋণের কথা বলে স্বাক্ষর নিয়ে আমতলীতে প্রতিবন্ধী চাচার জমি লিখে নিলেন ভাতিজা

আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধিঃ

ঋণ নেয়ার কথা বলে প্রতিবন্ধি চাচা মোঃ এমদাদ হাওলাদারের (৫৫) স্বাক্ষর ও টিপসই নিয়ে ভাতিজা মোঃ ফারুক হোসেন সমুদয় সম্পত্তি লিখে নিয়েছেন। এ ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে প্রতিবন্ধি চাচার আর্তনাতে এলাকার আকাশ বাতাস ভারি হয়ে উঠেছে। এলাকাবাসী ঘটনার বিচার এবং জমির দলিল বাতিলের দাবী জানিয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে বরগুনার আমতলী উপজেলার ছোট নীলগঞ্জ গ্রামে। মঙ্গলবার এ ঘটনায় প্রতিবন্ধি এমদাদ আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
জানাগেছে, উপজেলার ছোট নীলগঞ্জ গ্রামের আব্দুল গনি মাষ্টার পাঁচ ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে মারা যান। এর মধ্যে মোঃ এমদাদ হাওলাদার সরকারী ভাতাভুক্ত মানষিক ও শারীরিক প্রতিবন্ধি। বাবা গনি মাষ্টার উত্তর টিয়াখালী মৌজায় ১৯৭, ২২৮, ৬৫ এবং ছোট নীলগঞ্জ মৌজায় ৬৭, ৬৯ খতিয়ানে ২৭ একর সম্পতি রেখে যান। পৈত্রিক সূত্রে প্রতিবন্ধি এমদাদ প্রায় ৩.৩০ একর সম্পত্তি পান। এমদাদের স্ত্রী-সন্তান নেই। বাবার মৃত্যুর পরে অসহায় হয়ে পরে এমদাদ। ওই অসহায়ত্বের সুযোগে বড় ভাই চাঁন মিয়া মাষ্টার তাকে আশ্রয় দেন এবং তার সমুদয় সম্পত্তি তিনি ভোগদখল করেন। বিনিময়ে তিনি প্রতিবন্ধি ভাইকে থাকা ও খাওয়ার সুযোগ করে দেন। ওই সময় থেকে বড় ভাইয়ের সংসারে কাজ করে দিনাতিপাত করেন তিনি। ২০১৫ সালের জানুয়ারী মাসে চাঁন মিয়া মাষ্টারের ছেলে ফারুক হোসেন হাওলাদার প্রতিবন্ধি চাচা এমদাদকে ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার কথা বলে স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেন। ওই মাসের ২২ জানুয়ারী আমতলী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার অফিসে গোপনে ফারুক হোসেন হাওলাদার, তার মা হাসিনা বেগম ও বোন রাবেয়া আক্তারের নামে তৎকালিন সাব রেজিস্ট্রার ওমর ফারুককে মোটা অংকের ঘুষ দিয়ে সমুদয় জমি লিখে নিয়েছেন। ওই দলিলে সাব রেজিস্টার দাতার উপস্থিতি নিশ্চিত ও সত্যতা যাছাই করেনি এমন অভিযোগ প্রতিবন্ধি দাতা এমদাদের স্বজনদের। তড়িগড়ি করে ওই দলিল কাজ সম্পন্ন করে দেন তিনি। গত ৫ বছর ফারুকের এমন কর্মকান্ড গোপন থাকে। ইতিমধ্যে উপজেলা ভুমি অফিস থেকে তাদের নামে জমির রেকর্ড করেছেন। গত বুধবার ফারুক ওই জমি বিক্রির জন্য স্থানীয় একজনের সাথে বায়নাপত্র করেন। ওই সময় তার এ কু-কর্মের গোমর ফাঁস হয়ে যায়। এ ঘটনা ফাঁস হয়ে গেলে প্রতিবন্ধি এমদাদ কান্নায় ভেঙ্গে পরেন। গত ৭ দিন ধরে তিনি এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুড়ে এ ঘটনায় ফারুকের বিচার দাবী করছেন। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তারা দ্রæত ফারুকের শাস্তি ও জমির দলিল বাতিল করে প্রতিবন্ধি এমদাদের নামে জমি ফিরিয়ে দেয়ার দাবী জানান। এ ঘটনায় প্রতিবন্ধি এমদাদ মঙ্গলবার আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার ঘটনা তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
ওই গ্রামের মোশাররফ হাওলাদার, গোলাম মোস্তফা, জালাল হাওলাদার ও আমানুল বলেন, প্রতিবন্ধি এমদাদ জমি বিক্রি করে টাকা দিয়ে কি করবে ? তারতো কিছুই করার মত সামর্থ ও জ্ঞান নেই। তার ভাইয়ের ছেলে ফারুক ঋণের কথা বলে সকল জমি লিখে নিয়েছে। তারা আরো বলেন, প্রতিদিন এমদাদ এলাকার মানুষের দ্বারে দ্বারে এসে কান্নাকাটি করেন। এ ঘটনায় ফারুকের শাস্তি দাবী করছেন তারা।
প্রতিবন্ধি এমদাদ হাওলাদার কান্নাজনিত কন্ঠে বলেন, মোর কিছুই নাই মোর ভাইর পোলা ফারুইক্কা লোনের কতা কইয়্যা মোর টিপসই নেছে। অ্যাহন হুনি মোর ব্যাবাক জাগা লেইখ্যা লইয়্যা গ্যাছে।

মুই সরকারের কাছে মোর জমি ফিরাইয়্যা চাই। তিনি আরো বলেন, হারা বচ্ছর মোর জাগা খাইছে হ্যারপর ওগো ঘরে মোর কাম হইর‌্যা খাইতে অইছে। ফারুইক্কা মোরো মারছে। মুই এ্যইয়্যার বিচার চাই।
অভিযুক্ত ভাতিজা ফারুক হোসেন হাওলাদার বলেন, আমার চাচা এমদাদ তার সকল জমি আমার পরিবারের তিন জনের কাছে বিক্রি করে দিয়েছেন। আমি কোন জমি লিখে নেইনি।
আমতলী থানার ওসি মোঃ শাহ আলম হাওলাদার বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
তৎকালিন আমতলী উপজেলা সাব রেজিস্ট্রার মোঃ ওমর ফারুক বলেন, দলিলে দাতার উপস্থিত থাকতেই হবে। নইলে দলিল হবে না। নিশ্চয়ই দাতা উপস্থিত ছিল। তবে তিনি ঘুষ নিয়ে দাতার উপস্থিতি ছাড়া দলিল করার বিষয়টি অস্বীকার করেন।
বর্তমান সাব রেজিস্ট্রার মোঃ নুরুল ইসলাম সিকদার বলেন, মানষিক প্রতিবন্ধি নিজে কখনই জমি বিক্রি করতে পারবে না। তার জমি বিক্রি করতে হলে তার পক্ষে আদালতের আদেশ মতে প্রতিনিধি থাকতে হবে। তিনি আরো বলেন, ওই কাগজপত্র দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
বরগুনা জেলা রেজিস্ট্রার মোঃ সিরাজুল ইসলাম বলেন, দাতার উপস্থিতি ছাড়া দলিল হওয়ার প্রশ্নই আসে না। যদি উপস্থিত ছাড়া দলিল হয়ে থাকে আদালতে গেলে তিনি জমি ফিরে পাবেন।

আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved 2022 © aponnewsbd.com

ডিজাইন ও কারিগরি সহযোগিতায়: JPHostBD
error: সাইটের কোন তথ্য কপি করা নিষেধ!!